স্বার্থপর প্রেমিক বুঝার ৮টি লক্ষণ

আপনি যে ‘স্বার্থপর’ প্রেমিক তা বুঝার ৮টি লক্ষণ

(লাইফস্টাইল-বিডি.কম) সবার মাঝেই স্বার্থপরতা রয়েছে। এমন কিছু সময় আসে যখন স্বার্থপর হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু আত্মকেন্দ্রিক, অবিবেচক ও স্বার্থপর আচরণটাই যদি আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা ভাবনার বিষয়।

নিজের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে চিন্তা করা বাদ দিন এক মিনিটের জন্য। ভাবুন, আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা ছুটির দিনে কী করতে চায়, আপনি কি তা জিজ্ঞেস করেন? নাকি নিজে নিজেই প্ল্যান তৈরি করেন তার অনুমতি ছাড়াই? আপনাদের মাঝে ঝগড়া হলে কি আপনি তার কথা শোনেন, নাকি ধরেই নেন সে ভুল আর আপনি ঠিক?

কি, ঘটনাগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে? তাহলে এমনটাই হতে পারে যে আপনি নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে ভালো আচরণ করছেন না। প্রেমের সম্পর্কে স্বার্থপর আচরণ করছেন আপনি। জেনে নিন ‘স্বার্থপর’ প্রেমিকা বা প্রেমিকা হওয়ার ৮টি লক্ষণ—

১) আপনি অনেক কথা বলেন, কিন্তু শোনেন না
আপনার মন-মেজাজ খারাপ, আপনি প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে গিয়ে নিজের সব দুঃখের কথা বললেন, তিনিও মন দিয়ে শুনলেন এবং আপনাকে সান্ত্বনা দিলেন। ভালো কথা। কিন্তু তিনি যখন একইভাবে নিজের দুঃখের কথা বলতে আসেন, তখন আপনি কী করেন? আপনি কি বিরক্ত হয়ে যান? তাকে চুপ করিয়ে দেন? তাকে বলেন এসব চিন্তা না করতে? আপনার সঙ্গী আপনার এই আচরণ মেনে নেন হয়তো, তার মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি ঠিক কাজটি করছেন। সম্পর্কে দুজনের মাঝেই ভারসাম্য বজায় থাকা উচিত, একে অপরের মাঝে নির্ভরতার একটি জায়গা থাকা জরুরি। আপনি তার ওপর নির্ভর করছেন অথচ তিনি আপনার ওপর নির্ভর করতে পারছেন না, কিন্তু কেন? কারণ আপনি স্বার্থপর।

২) রেগে গেলে আপনি নীরবতার পথে চলে যান
কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে আপনি আলোচনা না করে বরং সঙ্গীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। তা কিন্তু কোনো সমাধান নয়! দুজন মানুষের মাঝে মতের পার্থক্য হবেই। এ বিষয়ে কথা বলে একটা সমাধানে আসতে হবে। কিন্তু আপনি তা করেন না। আপনি সঙ্গীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এতে তিনি কষ্ট পেতে থাকেন ও একটা সময়ে আপনার কথাই মেনে নেন। এটা পরিষ্কার স্বার্থপরতা।

৩) আপনার কথাই সঠিক
আপনি পুরুষ অথবা নারী যাই হন , আর দশজন মানুষের সাথে আপনার খুব একটা পার্থক্য নেই। তাহলে আপনি কি করে ধরে নেন প্রেমিক বা প্রেমিকার চেয়ে আপনি সব বিষয়ে বেশি জানেন? আপনি ইঞ্জিনিয়ার হলে হয়তো প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো জানেন। ব্যাংকে চাকরি করলে হয়তো আর্থিক বিষয়ে তার থেকে বেশি বোঝেন। কিন্তু সব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের মতামত তার ওপরে কেন চাপিয়ে দিচ্ছেন আপনি? আপনার থেকে তো তার জ্ঞান বেশি হতেই পারে। আপনি যদি সব ক্ষেত্রে নিজের মতেই অটল থাকেন, তাহলে নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে কোনো মূল্যই দেন না আপনি।

৪) আপনি নিয়মিত প্রেমিক বা প্রেমিকাকে স্বার্থপর বলে দোষ দেন
আপনি কি জানেন, নিজের মাঝে কোনো দোষ থাকলে সেই দোষটা আমরা অন্যের ভেতরেও খুঁজি এবং তা খুঁজে পেলে তা নিয়ে দোষারোপ করতে থাকি? আপনি নিজে স্বার্থপর বলেই সঙ্গীর ছোটখাটো স্বার্থপর আচরণগুলোও আপনার চোখে বড় হয়ে ধরা পড়ছে।

৫) আপনি প্রেমিক বা প্রেমিকাকে চোখে চোখে রাখেন
প্রেম করছেন, তার মানে এই নয় যে দুজন শুধুই দুজনাকে সময় দেবেন। আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার নিজের একটা জীবন আছে, পরিবার আছে, আলাদা বন্ধুমহল আছে। আপনি তা মানতে পারেন না। আপনি আশা করেন তিনি সব জায়গায় আপনাকে নিয়ে যাবেন, আপনার সাথেই সময় কাটাবেন। এটা অবশ্যই স্বার্থপরতা। তাকে নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচতে দিন।

৬) আপনি তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রচুর সমালোচনা করেন
সঙ্গীর পরিবারের কোনো কোনো সদস্য ও দুয়েকজন বন্ধুর প্রতি আপনার অনীহা থাকতেই পারে। কিন্তু এ কারণে তার পরিবার ও বন্ধুদেরকে এড়িয়ে চলা, তাদের নিয়ে আপত্তিকর আচরণ, কটু কথা বলা এমনকি তাদের থেকে দূরে থাকার জন্য প্রেমিক বা প্রেমিকাকে চাপ দেওয়া মোটেই ভালো নয়। কে ভালো মানুষ আর কে খারাপ—সে বিষয়ে তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। সঙ্গীর জীবনে এত বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা স্বার্থপরতার লক্ষণ।

৭) আপনি তার চাহিদা প্রাধান্য দেন না
সুস্থ একটি সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের যত্ন নেন, তার শারীরিক-মানসিক চাহিদার খোঁজ রাখেন। কিন্তু আপনি যদি শুধু নিজের ভালোর কথা ভাবেন, সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল না হন, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি স্বার্থপর। তার থেকে সুবিধা নিচ্ছেন, অথচ তার যত্ন নিচ্ছেন না, এমন সম্পর্কে সুস্থতা বজায় থাকে না।

৮) আপনি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন বারবার
দুজন মানুষে মিলে তৈরি হয় একটি সম্পর্ক। কোনো বিষয়ে আপনি নিজের মনের মতো ফলাফল নাও পেতে পারেন। হয়তো আপনি চাইছেন ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে যাবেন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে নিয়ে। তখন তিনি চাইছেন পরিবারকে সময় দিতে। এমন সময়ে আপনি কী করেন? নিজের মনের মতো কাজটা করতে না পারলে কি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন? আপনি যদি আসলেই তাকে ভালোবাসেন তাহলে আপনি জানেন এমন হুমকি তাকে কতটা কষ্ট দিচ্ছে! এর পরেও নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে এমন হুমকি দেওয়ার অর্থ আপনি স্পষ্টতই স্বার্থপর।

Leave a Reply