সফলতার গল্প

অদম্য ফারজানার সফলতার গল্প

(লাইফস্টাইল-বিডি.কম) ফারজানা আখতার পাখি ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে। শহরের মুন্সীপাড়ায় বাড়ি। ফারজানা ২০০১ সালে যখন মাত্র ডিগ্রীর ছাত্রী। তখন তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, যে পাড়ায় তার বাড়ি, সেই মুন্সীপাড়া, এবং পাশের খালপাড়া, আশ্রমপাড়াসহ আশে-পাশের এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তাদের মধ্যে নিরক্ষতাই সবচেয়ে বেশি। সচেতনতার অভাবও প্রকট। সুবিধা বঞ্চিত এই পরিবারগুলো ছোট-খাটো সমস্যায় পড়লে ও সমাধানের পথ খুঁজে পেতেন না। তাদের কল্যাণে কিছু করার ভাবনা থেকে তিনি এলাকার কয়েকজন মানুষ যাদের কেউ বন্ধু, কেউ আত্মীয় ও নিকটাত্মীয়, কেউ প্রতিবেশি, তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেন কিছু একটা করার জন্য। উদ্যোগ নিলেন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে সংগঠিত করে তাদের সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করার।

তারপর ২০০১ সালের প্রথমার্ধের একদিন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সভা ডাকেন ফারজানা। সেই সভায় সবাই একমত হন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার। সবাই মিলে এর নাম ঠিক করেন উপমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা। এলাকার শামিমা সুলতানাকে সভাপতি ও নিজে নির্বাহি সম্পাদক হয়ে সংস্থার একটি কমিটি গঠন করেন। নারী সমাজের উন্নয়নেঅবধান রাখার আকাংখায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও সূচনাকালে তাকে সহযোগিতা করেন মা আনোয়ারা বেগম, বাবা মরহুম শামসুল হক, বোন শামসুন নাহার পান্না, নাজমা নাজু, প্রতিবেশী মৌুসমী আখতার, সাগরিকা, ইতি, বিজলী, বন্ধু ইয়াসমিন, ইয়াসিন আলী, জাহাঙ্গির আলমসহ আরো অনেকে। প্রতিষ্ঠাকাল হতে সংগঠনটির অসাম্প্রদায়িক চরিত্র রুপায়নের চেষ্টা ছিল। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই সংগঠনের নেতৃত্বে ও সেবা-সুবিধা প্রাপ্তিতে যুক্ত ছিল।

দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি বলে সেখানে নিরক্ষর মানুষও বেশি ছিল। তাই প্রতিষ্ঠার শুরুতে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করেন ফারজানা। অর্থ ছিল না। সদস্যরা নিজেরা ১০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে সর্বমাট ২৫ শত টাকায় ৫টি বয়স্ক স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকায় গ্রহণ করেন বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রধানত নিরক্ষর মহিলাদেরকে সাক্ষরতা জ্ঞ্যাণসহ সাধারণ শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। শিক্ষকরা অনেকটা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করেন এবং সফল হন। এলকায় বয়স্ক সাক্ষরতার হার বেড়ে যায়। ফারজানার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহীন করে এলাকার মানুষ সংস্থায় আরো অর্থ সহায়তা দেয়।২০০১ থেকে ২০০৭ এই সময়টা অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে, তার অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ সাত বছর পর ২০০৮ সালে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন নামের একটি জাতীয় সংস্থা। তারা ৪টি স্কুলের জন্য অর্থায়ন করে। ঐ কর্মসুচি সফল হলে এগিয়ে আসে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এই দপ্তর হতে সাধারণ স্কুলের ঝরে পড়া শিশুদের জন্য উপমা পল্লী উন্নয়ন

আরো পড়ুন ..

সংস্থার মাধ্যমে ১০০টি আনন্দ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং ঝরে পড়া শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে পাঠ দান কর্মসুচি চালু হয়। এই কার্যক্রমও সফলভাবে শেষ হয়। এভাবেই নিজের প্রতিষ্ঠিত উপমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁর দরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত ও সংখ্যালঘু নারী, শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যান ফারজানা আখতার পাখি। ভাল কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। একটি ছোট সংস্থার মাধ্যমে ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন হতে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার, যুব নারীদের সফলভাবে সংগঠিত করায় জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পুরস্কার এবং নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোগ গ্রহণ ও অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ এনজিও ফাউন্ডেশন হতে জাতীয় পর্যায়ে স্মারক সম্মাননা পেয়েছেন। ২ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। ভাল কাজের স্বীকতি স্বরুপ জন হেরিসন সম্মাননা, ফিদেল ক্যাস্ট্রো সম্মাননাসহ আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন ফারজানা।

উপমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থার বর্তমান সভাপতি পারুল বেগম জানালেন, উপমার যা কিছু অর্জন তা এসেছে ফারজানার মাধ্যমে। তিনি আমাদের অনুকরণীয়। আমরা তার নেতৃত্বে উপমাকে আরো এগিয়ে নিতে চাই।

আজহারুল আজাদ জুয়েল
সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক
পাটুয়াপাড়া, জেলা/পোস্ট- দিনাজপুর
মোবা: ০১৭১৬৩৩৪৬৯০/০১৯০২০২৯০৯৭

Leave a Reply