ব্রণ থেকে মুক্তির সহজ উপায়!

সাধারণত উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা মুখে ব্রণের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে মুখের ব্রণ খুবই কষ্টের। কাউকে মুখ দেখতে ইচ্ছা করেন । সারাক্ষণ মুখ লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে।

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে মুখের সৌন্দর্য অনেক ভূমিকা রাখে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কী নারী, কী পুরুষ আমরা সবাই প্রথমে মুখের দিকে তাকাই। মুখের সৌন্দর্যেই পরষ্পরের প্রতি আকৃষ্ট হই। সেই মুখ অনেক সময় অবাঞ্ছিত ব্রণের কারণে অন্যের কাছে আকর্ষণ হারায়। শুধু ব্রণের কারণে অনেক মেয়ে সীমাহীন দুঃখবোধ আর হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেকে কুৎসিত ভেবে সহজে কারও সামনে যেতে চায় না। প্রায় সারাক্ষণ মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করে। অথচ একটু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত করা যায় খুব সহজেই।


আমরা জেনে নেয়ার চেষ্টা করি ব্রণ আসলে কী?
ব্রণ হলো মুখে ভেসে ওঠা একধরনের ফুসকড়ি। যা অনেক সময় পুঁজে পূর্ণ থাকে। ব্রণের কারণে মুখের কোমল ত্বকে ক্ষত, প্রদাহ হয়। ত্বকে কালো দাগ দেখা দেয়। ব্রণ নানা ভাবে ত্বকের তারুণ্য নষ্ট করে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী অনেক ব্রণে ময়লা পুঁজ জমে ছিদ্র বন্ধ হয়ে কালো বা সাদা মাথা বিশিষ্ট গোটার মতো আকার ধারণ করে। যে কারণে মুখের সৌন্দর্য সহজেই নষ্ট হয়।

আমরা কি জানি কেন মুখে ব্রণ ওঠে ?
নানা কারণে মুখে ব্রণ দেখা দেয়। প্রথম কারণ হলো মুখ অপরিষ্কার রাখা। অনেকে আছেন যারা বাইরে বেরিয়েছে। এখানে সেখানে অনেক ঘোরাঘুরিরর পর বাসায় ফিরে মুখ না পরিষ্কার করেই ঘুমিয়ে পড়ে। অথবা মুখ ধুলেও সময় নিয়ে পরিষ্কার নিশ্চিত করে না। এর ফলে মুখমন্ডলের কোমল ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে এবং তা একসময় ব্রণে পরিণত হয়। ত্বকের ছিদ্র পথে চর্বি আটকে অথবা ময়লা ধুলোবালি জমে যাবার কারণেও মুখে ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার দাবারে যারা অভ্যস্ত তারাও ব্রণে আক্রান্ত হতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান না করার ফলেও অনেক সময় মুখে ব্রণের সৃষ্টি হয়ে থাকে। আবার বংশগত কারণেও মুখে ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
সাধারণত উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা মুখে ব্রণের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। এই সময়ে দেহে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন দেখা দেয়। যা মুখে ব্রণসহ অন্যান্য উপসর্গে চরম বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। তবে একটু নিয়ম মেনে চললেই মুখের ব্রণ ও মেছতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

কয়েকটি সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা এই ব্রণ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারি:
প্রথমত ভালো মানের ফেইস ক্লিনজার দিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তবে বাইরে থেকে কিংবা অফিস থেকে বাসায় ফিরে অবশ্যই মুখমন্ডল পরিষ্কার করতে হবে। এর ফলে আপনার মুখের কোমল ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ময়লা আর ধুলাবালু জমে ত্বকের ছিদ্র পথ বন্ধ করার সুযোগ পাবে না। ফলে ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগও হবে না। মুখে নিয়মিত ভালোমানের ফেইস ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। কম ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ভালোমানের সাবানকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। অনেকে বাইরে থেকে এসে জোরে জোরে ঘষে মুখের ত্বক পরিষ্কার করেন। ভাবটা এমন জোরে ঘঁষলেই মুখের ময়লা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের ভাবা উচিত মুখের ত্বক তুলুন মূলক নরম। মুখে ভালোমানের সাবান অথবা ফেইস ক্লিনজার মেখে কুসুম কুসুম গরম বা হালকা গরম পানি দিয়ে আলতোভাবে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখবেন। এতে মুখের ত্বকের ছিদ্রপথ পরিষ্কার হবে। তাতে করে মুখের চামড়ায় জমে ওঠা অতিরিক্ত নিঃসরিত তেল বাইরে বেড়িয়ে যাবে। মুখের ত্বক পরিষ্কার হবে। মুখে ব্রণ মেছতা হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

জরুরি সতর্কবাণী হলো ময়লা তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা থেকে বিরত থাকুন।

কারণ এতে করে আপনার মুখের ত্বকের কালো দাগ, ব্রণ কিংবা প্রদাহ আরো বেড়ে যাওয়ার স্বভাবনা থাকে।
মোটকথা মুখের অবাঞ্ছিত ব্রণ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পরিছন্ন থাকার ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলেও ব্রণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কিন্তু আমরা কজন এটা মেনে চলি? সবাই কি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাই? চুলুন আজ থেকে এই নিয়মটাই পালন করতে চেষ্টা করি। তারপর দেখি মুখে ব্রণ কীভাবে জগায়?

Leave a Reply