চাকরি থেকে মুক্তির উপায়

চাকরি থেকে মুক্তির উপায় ! সত্যিকারের স্বাধীনতা উপভোগ ।

লেখাপড়া শেষ করার পর আমাদের সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হয় একটি চাকরি খোজা। অনেকেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই চাকরি খোজা শুরু করে দেয়। অনেককে প্রয়োজনের তাগিদে পড়া লেখা শেষ করার আগেই চাকরিতে প্রবেশ করতে হয়। এবং নাম মাত্র মূল্যে নিজের জীবনের সর্বোত্তম সময় গুলো বিক্রি করতে থাকে।

কিন্তু চাকরি করার থেকে অনেক ভালো কিছু রয়েছে করার মত। চাকরি বলতে যদি বুঝায় টাকা উপার্যন করা।তবে সৎ ভাবে টাকা উপার্জন করার অনেক সুন্দর পথ রয়েছে।

চাকরি বলতে আসলে যতক্ষন কাজ, ততক্ষনই টাকা। কাজ বন্ধ তো টাকা ও বন্ধ। আর মাসের শেষে একটা নিদৃষ্ট পরিমান টাকা। যা প্রথম সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। মাসের বাকি দিন গুলো ক্রেডিট কার্ড কিংবা অন্য কোনো উপায় বের করে চলতে হয়।

এমন যদি হয় সারাক্ষনই টাকা উপার্জন হতে থাকে !! কাজ করলেও টাকা, না করলেও টাকা! সারাক্ষন উপার্জন করা কি অসম্ভব কিছু? অবশ্যই না। অনেক গুলো সুন্দর পথ রয়েছে। ব্যবসা করা, ইনভেস্ট করা, ক্রিয়েটিভ কাজ করা যেমন ডিজাইনিং, ডেভেলপিং, লেখালেখি/ব্লগিং, ফটোগ্রাফি, সহ আরো অনেক। এগুলো থেকে রয়ালিটি ইনকাম আসতে থাকে। প্রথম প্রথম একটু বেশি সময় দিতে হয়। এর পর আর তেমন একটা সময় না দিলেও হয়। প্রথম প্রথম যে সময় দিতে হয়, তা একটি চাকরি খোজার সময় থেকে অনেক কম।

চাকরিতে বছরে দুই এক বার সামান্য কিছু বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু নিজের কাজ নিজে করলে ইচ্ছে করলেই বেতন বাড়িয়ে নেওয়া যায়। শুধু মাত্র পরিশ্রম একটু বাড়িয়ে দিলেই হয়।

চাকরি পাওয়ার জন্য অনেকেই অনেক ট্রেনিং নেয়, বা অনেক গুলো বই পড়ে। অথচ ঐ বই বা ট্রেনিং চাকরি করার জন্য না নিয়ে নিজের কাজের স্কিল বাড়ানোর জন্য নিলে দারুণ কিছু শেখা যেতো। যে গুলো কাজে লাগিয়ে আরো ভালো কিছু করা যেত।

চাকরি মানুষকে একটা নিদৃষ্ট বিষয়ের উপর অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিনিয়ত সব কিছু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারলে এক সময় নতুন বিষয়ের সাথে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারে না। এতে অনেকেরই হয়তো চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

সব সময়ই মনের মধ্যে একটা আতঙ্ক থাকে, সব কিছু ঠিক মত হচ্ছে তো? চাকরি চলে যাবে না তো। বস রেগে নেইতো ইত্যাদি। অথচ নিজের কোন কাজ হলে এসব চিন্তা করার প্রয়োজন হয়না।

আচ্ছা, চাকরি কি মানুষকে ভিতু করে না? মাস শেষে অল্প কিছু টাকা হাতে পায়। অনেকের হয়তো ঐ অল্প টাকাতেই হয়ে যায়। আবার কারো কারো অনেকের দ্বায়িত্ব নেওয়ার কারণে ঐ অল্প তাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। যারা সৎ থাকে, তারা হয় বাড়তি কাজ করার চেষ্টা করে। আর না হয় অনেকেই নিজের সততাকে বিকিয়ে দেয়। নষ্ট করে মানুষত্ব বোধ। সবচেয়ে অমুল্য সম্পদ।

এছাড়া চাকরি করলে নিজের ইচ্ছে মত কখনোই ছুটি কাটানো যায় না। কখনো কখনো প্রয়োজনেও ছুটি পাওয়া যায় না। এসব ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সার বা উদ্যোক্তারা ভালো একটা সুবিধে নিতে পারে। প্রয়োজনে ছুটি কাটানো যায়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের ও সারাক্ষন কাজ করতে হয়। এক সপ্তাহ কাজ না করলে পরের সপ্তাহ খরচ করার মত টাকা থাকে না, যদি না সে আগে সেভ করে রাখে। আর সব থেকে ভালো পন্থা হচ্ছে একটা প্যাসিভ ইনকামের পথ তৈরি করা। যেখানে কাজ না করলেও একটা ইনকাম আসবে। তবে তার জন্য অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে সময় দিতে হবে।

চাকরির প্রতি অবহেলা নয়। কিন্তু অনেকেই চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক কিছু করে। চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে যায়। এক অফিশ থেকে আরেক অফিশে সিভি জমা দিতে দিতে নিজের অমূল্য সময় নষ্ট করে। এমনকি অসৎ পন্থাও অবলম্বন করে। কিন্তু চাকরি করা থেকেও যে ভালো কিছু করা যায়, তা জানানোর জন্যই এ লেখা।

অনেক গুলো পন্থার কথা বলছি, যা চাকরি করা ছাড়াও করা যায়, প্রথমেই বলছি ব্যবসা করার কথা। ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা নেই। নিজের ব্যবসা করার মত অভিজ্ঞতা না থাকলে যাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে, তাদের সাথে পার্টনার হয়ে ইনভেষ্ট করা যেতে পারে।

যদি ইনভেস্ট করার মত টাকা না থাকে? আরো অনেক গুলো পথ রয়েছে। অফলাইনে করার মত হয়তো অনেক গুলো পথ থাকতে পারে। আমার জানা না থাকার কারণে লিখছি না। অনলাইনে যে সব কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো নিয়ে লিখছি। তার মধ্যে ডিজাইনিং অন্যতম।

আরো পড়ুন …

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
ডিজাইনিং শিখে নিজের করা ডিজাইন গুলো অনলাইনে অনেক গুলো সাইটেই আপলোড করা যায়। যে গুলো বিক্রি হলে নিজের একাউন্টে টাকা জমা হতে থাকে। প্রথম প্রথম হয়তো তেমন কোন টাকা আসবে না, কিন্তু এক সময় প্রতি মাসেই একটা ভালো রেভিনিউ আসতে থাকবে। যা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। এরকম ডিজাইন সেল করার সাইটের মধ্যে http://graphicriver.net/ অন্যতম।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জানা থাকলে ওয়েব সাইট তৈরি করা যেতে পারে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ভালো জানা থাকলে ওয়েব সাইটের জন্য টেমপ্লেট তৈরি করা যেতে পারে। যে গুলো সেল করে একটা ভালো রয়ালিটি ইনকাম জেনারেট করা যেতে পারে। এ ওয়েব টেমপ্লেট সেল করার উল্যেখযোগ্য সাইট হচ্ছে http://themeforest.net/ এরকম আরো অনেক গুলো রয়েছে অনলাইনে। একটু সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।

ভিডিও ক্লিপ তৈরি
নিজে কোন বিষয় দক্ষ হলে আরেক জনে কিভাবে তা শিখতে পারে, তার ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেল থেকে সহজেই রেভিনিউ জেনারেট করা যায়। এ ছাড়াও রয়েছে Coursera এর মত অনেক ওয়েব সাইট। যেখানে কোন বিষয়ের উপর টিউটোরিয়াল তৈরি করে সেল করা যায়। ভিডিও তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।

সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট
সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট জানা থাকলে সফটওয়ার তৈরি করা যেতে পারে। ভালো আইডিয়া থাকলে এবং ভালো সফটওয়ার তৈরি করতে পারলে একটা সফটওয়ার থেকেই যথেষ্ট রেভিনিউ আসতে থাকবে। সব সময় যে বড় কোন প্রজেক্ট করতে হবে তা না, সিম্পল কিন্তু ইফেক্টিভ কিছু দিয়েই ভালো কিছু করা সম্ভব।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
বর্তমান সময় মোবাইল এপপ্স নিয়ে কাজ করার অনেক বড় একটা মার্কেট তৈরী হয়েছে। এন্ড্রয়েড, আইফোন বা উইন্ডোজ ফোনের জন্য অ্যাপ তৈরি করা যেতে পারে। যে সময় ধরে মানুষ চাকরি খুজবে, তার থেকে কম সময়ের মধ্যে এসব ডেভেলপমেন্ট স্কিল শেখা যায়। এক রাতেই মিলিনিয়ার হওয়ার মত অনেক গুলো সুন্দর সুন্দর গল্প রয়েছে মোবাইল অ্যাপ নিয়ে। রয়ালিটি ইনকামের জন্য অ্যাপ সেলিং অবশ্যই সুন্দর এবং ভালো একটা পন্থা।

ফটোগ্রাফি
শখ করে অনেকেই DSLR ক্যামেরা কিনেন। ক্যামেরা দিয়ে শুধু যে বিয়ে বা কোন জন্মদিনের পার্টির ফটোগ্রাফি করে আয় করা যায়, তা না। আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পথ রয়েছে। নিজের ফটো ব্লগ খুলে তা থেকে আয় করা যায়। কোন একটা বিষয় খুজে তার উপর ফটোগ্রাফি করা যেতে পারে। অনলাইনে অনেক গুলো সাইট রয়েছে ফটো সেল করার। যে গুলো দেখা যেতে পারে। যেমনঃ Top 10 sites to sell your photos online

Affiliate Marketing
ভালো একটা রেভিনিউ জেনারেট করা যায় Affiliate Marketing করে ও । কাজটা তো জানতে হবে, কি ভাবে Affiliate Marketing করে। জানাটাও খুব একটা কঠিন না। কোন ইনিস্টিটিউটের দরকার পড়ে না এখন আর। Google এ গিয়ে সার্চ করলেই অনেক গুলো টিউটোরিয়াল হাজির হবে। একটা থেকে দেখা বা পড়া শুরু করলেই আস্তে আস্তে শিখে নেওয়া যাবে। দরকার ধৈর্য্যের।

লেখালেখি
বরাবরই রয়ালিটি ইনকামের সুন্দর একটি মাধ্যম লেখা লেখি করা। ইনটারনেটের কারণে এটা এখন আরো সহজ এবং ইফেক্টিভ। ওয়েব সাইট খুলে নিজের পছন্দের বিষয় এর উপর লিখলে এবং ওয়েব সাইটে অ্যাড দিয়ে সুন্দর একটা রেভিনিউ জেনারেট করা যায়। টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেট সহ যেকোন খেলা, রান্না বান্না, বই এর রিভিউ, মুভি রিভিউ সহ যে কোন বিষয়ের উপর আর্টিকেল লেখা যায়। একই সাইটকে ব্যবহার করা যায় Affiliate Marketing এর জন্য।

এগুলোর বাইরেও অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করা যায়। শুধু রিসার্সে একটু সময় দিলেই খুব সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব। খুজে বের করতে হবে নিজের কাছে কি ভালো লাগে। নিজে নিজে প্রথম প্রথম কিছু না করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের জ্ঞান বাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। এর পর নিজের কাজ নিজেই শুরু করলে সুন্দর একটা ইনকাম এর উৎস তৈরি হবে। তখন সব সময় কাজ করার চিন্তা না করলেও হবে। ২৪ ঘন্টাই নিজের একাউণ্টে টাকা জমা হতে থাকবে। নিজে কোথায় থাকি, তা কোন ব্যাপার নয়। উপভোগ করা যাবে সুন্দর জীবন, স্বাধীন জীবন। সত্যিকারের স্বাধীনতা।

Leave a Reply