দাঁতের যত্ন

দাঁতের যত্ন নেওয়ার সময়ে ভুল করছেন না তো?

(লাইফস্টাইল-বিডি.কম) অনেক সময় আমরা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পরেও দাঁতের নানা রকম সমস্যায় ভুগি, তখন সাধারণ ভাবেই প্রশ্ন জাগে আসলে দাঁতের সঠিক পরিচর্যা কি ? আসুন জেনে নেই সঠিক উপায় দাঁতের পরিচর্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- আসলে ব্যাপারটা হলো, শুধু নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করাই শেষ কথা নয়, তাহলে শেষ কথা হলো ব্রাশ করার সময়েও কিছু নিয়ম মানতে হবে। জেনে নিন, এই ভুল গুলো করছেন না তো আপনিও?

১) ব্রাশ করছেন দায়িত্বহীনভাবে

দিনে ২ বার ব্রাশ করতেই হবে যদি দাঁত থেকে জীবাণু দূর করতে হয়, এর কোনো বিকল্প ব্যাবস্থা নেই। খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তাতে থাকা চিনি হজম করে ও এসিড এবং উপজাত তৈরি করে। এসব মিলে সাধারণত প্লাক তৈরি হয়। তবে খাবার খাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্লাক তেমন ক্ষতি করে না। প্লাক পরিষ্কার না করলে এর এসিডগুলো দাঁতে অতি ক্ষুদ্র ফুটো করে ফেলে এবং একটা সময়ে এই ফুটো দৃশ্যমান ক্যাভিটিতে রূপ নেয়।

দাঁতের যত্ন
দাঁতের যত্ন

প্লাক দূর করার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে দাঁত ব্রাশ করা উত্তম। এ সময়ে দুই/ তিন মিনিট সময় নিন দাঁত ব্রাশ করার জন্য। সাধারণ ব্রাশের তুলনায় ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বেশি কার্যকরী। অন্যদিকে চিকন মাথাওয়ালা টুথব্রাশ মুখের পেছন দিকেও পরিষ্কার করতে পারে।ব্রাশ করার সময় নিশ্চিত হউন সব দাঁত সঠিক ভাবে পরিষ্কার হয়েছে কিনা ।

২) ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন

দাঁত ব্রাশ করার বেশিরভাগ উপকারিতাটা আসে টুথব্রাশ থেকে। অনেকে ফ্লোরাইডবিহীন বা কম ফ্লোরাইড যুক্ত , সুগন্ধি বা হার্বাল টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, যা আসলে দাঁতের জন্য তেমন কোনো উপকারে আসে না। ফ্লোরাইড দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং দাঁতের হারানো খনিজ পদার্থ পূরণে অবধান রাখে। সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়ার জন্য ১৩৫০-১৫০০ পিপিএম পরিমাণ ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

৩) বেশি কুলি করবেন না

ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন

ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন

দিনের তুলনায় রাতে মুখের ভেতরে স্যালাইভা বা লালা কম উৎপন্ন হয়। সারাদিন মুখে পর্যাপ্ত পরিমান লালা থাকার কারণে ব্যাকটেরিয়া কম উৎপাত করতে পারে। রাতে মুখ শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার উৎপাত বেড়ে যায় এবং ক্ষতি বেশি করতে পারে। এই কারণে রাতে দাঁত ব্রাশ করার পর বেশি কুলি করবেন না। যাতে দাঁতে

রয়ে যায় এবং সারারাত দাঁতকে সুরক্ষা দিতে পারে। ব্রাশ করার পর পানি ছাড়া অন্য কিছু পান করা বা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে দাঁত ক্ষয় কমে আসবে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।

৪) চিনির ব্যাপারে সতর্ক বার্তা

আমরা কম বেশি সবাই জানি চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু যে সব খাবার স্বাস্থকর বলে আমাদের কাছে পরিচিত- যেমন ভিবিন্ন ফলের জুস ও মধুতে থাকা চিনিও কিন্তু দাঁতের জন্য জন্য ক্ষতিকর। ব্যাকটেরিয়া এসব চিনিকে সহজে হজম করে ফেলে এবং এসিড তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী , দৈনিক মোট খাবারের ৫ শতাংশের বেশি চিনি থাকা উচিত নয়। তারমানে এটা কি পরিমান ? উত্তর হলো ১১ বছর বয়সের বেশি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তা হলো আট চা চামচ বা ৩০ গ্রাম।

আরো পড়ুন …..

জেনে রাখুন, ৩৩০ মিলি কোকের ক্যানে চিনি থাকে ৩৫ গ্রাম!

আর একটা জরুরি বিষয় হলো কত ঘন ঘন চিনি খাচ্ছেন সেটা। প্রতিদিন ৩/৪ বার অল্প পরিমান চিনি খেতে পারেন তেমন কোনো ক্ষতি ছাড়াই। তবে বিস্কুট, চিপস, চা বা কফি, জুস- এগুলো কতবার খাচ্ছেন বা পান করছেন তার হিসেব রাখুন। তাহলেই বুঝবেন দিনে কতবার চিনি খাওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply