অনলাইনে কেনাকাটা

অনলাইনে পণ্য কেনার আগে সাবধান হউন ! !

আমাদের দেশে দিন দিন অনলাইনে কেনাকাটা এর প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। দেশে ই-কমার্স বিজনেস জনপ্রিয় হয়ে ওঠার এটাই মূল কারণ। ক্রেতার সাথে পাল্লা দিয়ে দিন দিন বিক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু আমরা যারা ঘরে বসে পন্য অর্ডার দিচ্ছি, হোম ডেলিভারি নিচ্ছি – তারা কি জানি যে, এই ক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকি বিদ্যমান? অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় সামান্য একটা ভুল সিদ্ধান্তে অনেক ক্ষতি হতে পারে আপনার।

নিরাপদে লেনদেন করার কিছু টিপস থাকছে আমার আজকের আয়োজনেঃ

নিরাপদ ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করুন

অর্থনৈতিক যে কোনো কাজ যেমন ব্যাংকিং বা কেনাকাটার জন্য প্রাইভেট ওয়াই-ফাই বা ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করুন। ফ্রি ওয়াই-ফাই নেট ব্যবহার করলে এ ধরণের আর্থিক লেনদেন না করাই ভাল। অনেক সময় ওয়াই-ফাই নেটের মাধ্যমে কানেক্টেড ডিভাইসের ব্রাউজিং মনিটর করা হয়। সেক্ষেত্রে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।

কোন সাইটে মোবাইলে সব সময় লগ ইন হয়ে থাকবেন না

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইট মোবাইল দিয়ে ভিজিট করি। কিন্তু মোবাইলটা আমার নিজের হাতে থাকে বলে সাধারণত লগ আউট না করে বেরিয়ে যাই। কিন্তু এটা ঠিক নয়! আপনি যদি মোবাইল দিয়ে অনলাইন কেনাকাটা করেন তাহলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। লগ আউট করতে না চাইলে মোবাইলে অবশ্যই লক স্ক্রিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যদি কোনো কারণে আপনার মোবাইল চুরি হয় তাহলে পুরো ব্যাংক ব্যালেন্স চোরের হাতে দিয়ে দিলেন।

ই-কমার্স সাইট নিরাপদ কিনা যাচাই করুন

URL দেখেই সাইটটি বিশ্বস্ত কিনা তা জানা যায়। যদি সেখানে “https” থাকে তাহলে চোখ বন্ধ করে ধরে নিন এটা নিরাপদ সাইট। অন্যদিকে শুধু “http” থাকলে এই সাইট নিরাপদ কিনা তা URL দেখে বোঝা যাবে না।

অনলাইনে কেনাকাটা করুন শুধুমাত্র বিশ্বস্ত সাইট থেকে

দেশে এখন অনেক ধরণের কেনাকাটার সাইট তৈরি হয়েছে। সবগুলো যে বিশ্বস্ত তা বলা যায় না। অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় সাইট গুলি থেকে পন্য কেনার সময় খুব সাবধান হউন। ভাল ভাবে যাচাই করে নিন। তবে নতুন মানেই খারাপ নয়! আমি নতুন হওয়া বাংলাদেশি টপ অল ব্র্যান্ড নামের একটা সাইট থেকে পন্য কিনে অনেক বিখ্যাত ই-কমার্স সাইটের চেয়ে ভাল সার্ভিস পেয়েছি।

তবে নতুন কোন ইকমার্স ওয়েবসাইট থেকে পন্য কেনার আগে ভাল ভাবে যাচাই করে দেখে নিনঃ

  • তাদের ওয়েবসাইট মানসম্পন্ন কি না
  • সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে লাইক এবং ইউজারদের রিভিউ আছে কি না
  • থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট কিংবা নিউজ পোর্টালগুলোতে তাদের নিয়ে নিউজ ছাপা হচ্ছে কি না
  • তাদের নির্দিষ্ট অফিস এড্রেস আছে কি না
  • তারা বড় আঁকারে বিজনেস সেটআপ করে নিয়েছে কি না

এইসব দেখে পজিটিভ মনে হলে পন্য কিনতে পারেন।

আরো পড়ুন ..

ফেসবুক শপ থেকে পন্য কেনার সময় ১ লাখের বেশি লাইক আছে এমন পেইজ খুঁজে নিন। নতুন তৈরি হওয়া পেইজ থেকে কেনাকাটা নিরাপদ নাও হতে পারে। অনেক সময় অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে আমাদের অগ্রিম পে করতে হয়। কোন অসাধু ব্যবসায়ি হয়ে থাকলে, আপনার টাকা নিয়ে পন্য নাও দিতে পারে।

তাছাড়া কোন পন্য কেনার সময় আপনাকে ঠিকানা, ফোন নম্বর সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাইটকে দিতে হয়। তাই বিশ্বস্ত সাইট না হলে, তারা এইসমস্ত তথ্য থার্ড পার্টির কাছে বিক্রি কিংবা বাজে কাজে ব্যবহার করতে পারে। কোন ধরণের বোকামি করবেন না!

একাউন্ট করার সময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
আপনি যে ওয়েবসাইট থেকেই কেনাকাটা করেন না কেন, সেখানে আপনার প্রথমে একটা একাউন্ট করতে হয়। এই একাউন্টটি করার সময় অবশ্যই শক্তিশালি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। অনলাইনে নিজেকে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের বিকল্প নেই। আমাদের অনেকের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায়- আমরা পাসওয়ার্ড হিসেবে জন্মদিন, মোবাইল নম্বর, নিজের নাম বা ১২৩৪৫ ইত্যাদি টাইপ করে সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। এটা খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর কারণ হচ্ছে যে, এই ধরণের পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের ধারণা করা অনেক বেশি সহজ। তাই নিরাপদ থাকতে চাইলে আপনাকে অনেক কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

অনলাইনে কেনাকাটা

কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করুন। ডেবিট কার্ড নয়!
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কিছু নিয়মকানুন থাকে। তাই চাইলেই যে কেউ ব্যবহার করতে পারে না। অন্য দিকে ডেবিট কার্ড দিয়ে অনেক সহজেই অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়। পাসওয়ার্ড জানা থাকলে যে কেউ এ দুর্বলতা কাজে লাগাতে পারে।

ক্যাশ অন ডেলিভারি
বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কারও কাছে পণ্য পাওয়ার আগেই পেমেন্ট করবেন না। বিশেষ করে ফেইসবুক পেইজ আর নতুন ওয়েবসাইটগুলোর ক্ষেত্রে কখনোই আগে পেমেন্ট করা উচিৎ না। তাদেরকে বলুন ক্যাশ অন ডেলিভারির কথা, অর্থাৎ পণ্য বুঝে পেলেই কেবল আপনি টাকা দিবেন তাদের হাতে।

রিটার্ন/ রিপ্লেসমেন্ট পলিসি সম্পর্কে জেনে নিন
অনেক সময় এমন হতে পারে, অনলাইনে আপনি যেমন পণ্যটি দেখলেন বাস্তবে সেটার সাথে বেশ অমিল রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ত্রুটিপূর্ণ প্রোডাক্টও পেতে পারেন। তখন তারা রিফান্ড অথবা রিপ্লেস্মেন্ট করবে কিনা সেটা তাদের রিটার্ন/রিপ্লেসমেন্ট পলিসির উপর নির্ভর করবে। তাই পণ্য কেনার আগে তাদের রিটার্ন/রিপ্লেসমেন্ট পলিসি কেমন সেটা অবশ্যই কেনার আগে জেনে নিন।

Leave a Reply